এইচ.এস.সি আইসিটি অধ্যায় ৫.২ : প্রোগামিং ভাষা

Posted by: | Published: Wednesday, November 07, 2018 | Categories:
ওয়েব স্কুল বিডি : সুপ্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিয়ো। আজ তোমাদের এইচ.এস.সি আইসিটি অধ্যায় ৫.২: প্রোগামিং ভাষা এর খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা করা হলো পঞ্চম অধ্যায়ের প্রোগ্রামিং ভাষা থেকে অ্যালগোরিদম এবং ফ্লোচার্ট এর আলোচনা  নিয়ে আলোচনা করা হলো।


একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী : তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি 
অধ্যায় পঞ্চম : প্রোগামিং ভাষা 

অ্যালগোরিদমঃ কোনো একটি নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধানের জন্য যুক্তিসম্মত সসীম সংখ্যক পর্যায়ক্রমিক ধারা বর্ননাকে একত্রে অ্যালগোরিদম বলা হয়। কোনো সমস্যাকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং দ্বারা সমাধান করার পূর্বে কাগজে-কলমে সমাধান করার জন্যই অ্যালগোরিদম ব্যবহার করা হয়। আরব গনিতবিদ ‘আল খারিজমী’ এর নাম অনুসারে অ্যালগোরিদম নামকরন করা হয়েছে।

অ্যালগোরিদম তৈরির শর্তঃ
১। অ্যালগরিদমটি অবশ্যই সহজবোধ্য হতে হবে।
২। অ্যালগোরিদমের প্রত্যেকটি ধাপ স্পষ্ট হতে হবে যাতে সহজে বোঝা যায়।
৩। সসীম সংখ্যক ধাপে সমস্যার সমাধান হতে হবে।
৪। অ্যালগোরিদম ব্যাপকভাবে প্রয়োগ উপযোগী হতে হবে।

অ্যালগোরিদম তৈরির সুবিধাঃ
১। সহজে প্রোগ্রামের উদ্দেশ্য বোঝা যায়।
২। সহজে প্রোগ্রামের ভুল নির্ণয় করা এবং তার সমাধান করা যায়।
৩। প্রোগ্রাম প্রবাহের দিক বুঝা যায়।
৪। জটিল প্রোগ্রাম সহজে রচনা করা যায়।
৫। প্রোগ্রাম পরিবর্তন ও পরিবর্ধনে সহায়তা করে।

ফ্লোচার্ট বা প্রবাহ চিত্রঃ যে চিত্রভিত্তিক পদ্ধতিতে বিশেষ কতকগুলো চিহ্নের সাহায্যে কোনো একটি নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান করা হয় তাকে ফ্লোচার্ট বলা হয়। অন্যভাবে বলা যায়, অ্যালগোরিদমের চিত্ররূপই হল ফ্লোচার্ট। ফ্লোচার্টের সাহায্যে প্রোগ্রাম বোঝা সহজ হয় বলে এটি প্রোগ্রামার ও ব্যবহারকারীর মাঝে সংযোগ রক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয়।

ফ্লোচার্টের সুবিধাঃ
১। সহজে প্রোগ্রামের উদ্দেশ্য বোঝা যায়।
২। সহজে প্রোগ্রামের ভুল নির্ণয় করা এবং তার সমাধান করা যায়।
৩। প্রোগ্রাম প্রবাহের দিক বুঝা যায়।
৪। জটিল প্রোগ্রাম সহজে রচনা করা যায়।
৫। প্রোগ্রাম পরিবর্তন ও পরিবর্ধনে সহায়তা করে।

ফ্লোচার্ট তৈরি করার নিয়মাবলীঃ
১। প্রচলিত চিহ্ন বা প্রতীক ব্যবহার করে ফ্লোচার্ট তৈরি করতে হবে।
২। তীর চিহ্ন দিয়ে প্রোগ্রামের প্রবাহ দেখাতে হবে।
৩। ফ্লোচার্ট তৈরি করার সময় সংযোগ চিহ্ন যতসম্ভব কম ব্যবহার করতে হবে।
৪। ফ্লোচার্ট সহজে বোধগম্য এবং ব্যাপকভাবে প্রয়োগ উপযোগী হতে হবে।
৫। ফ্লোচার্টে কোন প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহার করা যাবে না।
৬। চিহ্ন বা প্রতীক গুলো ছোট বড় হলে ক্ষতি নাই তবে আকৃতি ঠিক থাকতে হবে।
৭। প্রয়োজনে চিহ্নের সাথে মন্তব্য দিতে হবে।

ফ্লোচার্টের প্রকারভেদঃ ফ্লোচার্টকে প্রধানত দুইভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১। সিস্টেম ফ্লোচার্ট – সিস্টেম ফ্লোচার্টে ডেটা গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ এবং ফলাফল প্রদর্শনের প্রবাহ দেখানো হয়। কোন সিস্টেমের কার্যপ্রনালী বোঝাতে সিস্টেম ফ্লোচার্ট ব্যবহিত হয়।
২। প্রোগ্রাম ফ্লোচার্ট – প্রোগ্রাম ফ্লোচার্টে প্রোগ্রামের বিভিন্ন ধাপের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়। এছাড়া প্রোগ্রামের ভূল নির্ণয় ও সংশোধনে প্রোগ্রাম ফ্লোচার্ট ব্যবহিত হয়।

ফ্লোচার্ট গঠনের মৌলিক ধরণ বা স্ট্রাকচারঃ
১। সরল অনুক্রম (Simple Sequence) – এই স্ট্রাকচারে প্রোগ্রামের নির্দেশগুলো সরল অনুক্রমে ধারাবাহিকভাবে নির্বাহ হয়ে থাকে।
২। নির্বাচন বা সিলেকশন (Selection)- কোন একটি শর্তের সত্য বা মিথ্যার উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিয়ে কার্য নির্বাহের ক্ষেত্রে এই স্ট্রাকচার ব্যবহিত হয়।
৩। পুনরাবৃত্তি বা লুপ (Loop)- একই ধরণের কাজ পুনরাবৃত্তি করার জন্য এই স্ট্রাকচার ব্যবহিত হয়।
৪। জাম্প (Jump)- এই স্ট্রাকচারে প্রোগ্রামের প্রবাহ সরল অনুক্রমের পরিবর্তে কোন শর্তের সত্য বা মিথ্যার উপর ভিত্তি করে উপরের বা নিচের নির্দিস্ট কোন নির্দেশ নির্বাহ হতে থাকে।

ফ্লোচার্টে ব্যবহিত প্রতিক সমূহ এবং এদের ব্যবহারঃ
এটি একটি ডিম্বক (Oval) আকৃতিক প্রতীক। এটি ফ্লোচার্টের শুরু এবং শেষ নির্দেশ করে ।

সামন্তরিক আকৃতির প্রতীককে ইনপুট/আউটপুট প্রতীক বলে। অর্থাৎ সামন্তরিক প্রতীক ইনপুট নেওয়া ও আউটপুট প্রদর্শন নির্দেশ করে।

আয়তাকার আকৃতির এই প্রতীককে প্রক্রিয়াকরণ প্রতীক বলে। এই প্রতীক কোন প্রক্রিয়া নির্দেশ করে।

হীরক আকৃতির এই প্রতীককে সিদ্ধান্ত প্রতীক বলে।যখন শর্তের সাপেক্ষে কোন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয় তখন ব্যবহিত হয়। এই প্রতীকের মধ্যে শর্ত লেখা হয়।

বৃত্ত বিশিষ্ট এই প্রতীকটি সংযোগ প্রতীক হিসাবে ব্যবহৃত হয়। একাদিক শাখা যখন একটি বিন্দুতে মিলিত হয় তখন এই প্রতীক ব্যবহিত হয়।

তীর চিহ্ন বিশিষ্ট সরলরেখা দিক নির্দেশ প্রতীক হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

সূডোকোড (Pseudo Code): একটি প্রোগ্রামের ধরণ বা কার্যপ্রণালী বর্ননা বা উপস্থাপনার জন্য ইংরেজি ভাষায় লেখা কতগুলো নির্দেশনার সমষ্টিকে একত্রে সূডোকোড বলে। সূডোকোডকে অ্যালগোরিদমের পূর্ব-পস্তুতি বা অনেক সময় অ্যালগোরিদমের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সূডো(Pseudo) একটি গ্রীক শব্দ যার অর্থ হচ্ছে ছদ্ম।

দুটি সংখ্যার গড় নির্ণয় করার সূডোকোড-
Start
Input a and b
Average = (a+b)/2
Print Average
End

অ্যালগোরিদম কোডিং-এর পূর্বশর্ত -ব্যাখ্যা কর।
কোনো একটি নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধানের জন্য যুক্তিসম্মত ও ধাপে ধাপে সমাধান করার যে পদ্ধতি, তাকে অ্যালগরিদম বলা হয়। অপরদিকে কোনো সমস্যাকে কম্পিউটার দ্বারা সমাধান করার জন্য প্রোগ্রামিং ভাষায় নির্দেশনা দেওয়াকেই বলে কোডিং। এক্ষেত্রে কোনো সমস্যাকে কম্পিউটার দ্বারা সমাধান করার পূর্বে অ্যালগরিদম অনুসরণ করলে যে সুবিধাগুলো পাওয়া যায়, তা হলো- সহজে প্রোগ্রামের উদ্দেশ্যে বোঝা যায়। সহজে প্রোগ্রামের ভুল নির্ণয় করা যায়। প্রোগ্রামের প্রবাহের দিক বুঝা যায়। জটিল প্রোগ্রাম সহজে রচনা করা যায়। প্রোগ্রাম পরিবর্তন ও পরিবর্ধনে সহায়তা করে।অর্থাৎ কোডিং করার পূর্বে অ্যালগরিদম অনুসরণ করলে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। তাই বলা যায় অ্যালগরিদম কোডিং বা প্রোগ্রামিং এর পূর্বশর্ত।


Previous
Next Post »

আপনার কোন কিছু জানার থাকলে কমেন্টস বক্স এ লিখতে পারেন। আমরা যথাযত চেস্টা করব আপনার সঠিক উত্তর দিতে। ভালো লাগলে ধন্যবাদ দিতে ভুলবেন না।
- শুভকামনায় ওয়েব স্কুল বিডি
ConversionConversion EmoticonEmoticon