আইসিটি অধ্যায় ১.২ : বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত

Posted by: | Published: Monday, November 14, 2016 | Categories:
ওয়েব স্কুল বিডি : সুপ্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিয়ো। আজ তোমাদের এইচ.এস.সি বা উচ্চমাধ্যমিকের আইসিটি অধ্যায় ১.২:বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত এর খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা করা হলো

অনলাইন এক্সামের বিভাগসমূহ:
জে.এস.সি
এস.এস.সি
এইচ.এস.সি
সকল শ্রেণির সৃজনশীল প্রশ্ন (খুব শীঘ্রই আসছে)
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি (খুব শীঘ্রই আসছে)
বিসিএস প্রিলি টেষ্ট

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা Artificial Intelligence

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (Artificial Intelligence) জনক ব্রিটিশ গনিতবিদ অ্যালান টিউরিংও বুদ্ধিমত্তার সংজ্ঞা কি তা নিরুপণ করতে পারবেন বলে মনে করেননি, বা এ নিয়ে কারোর সাথে বিতর্কেও যেতে চাননি।বুদ্ধিমত্তা কাকে বলে, তা একটি বহুল বিতর্কিত বিষয়, সেটা টিউরিং সময়কালে তো বটেই, এমনকি বর্তমানেও বুদ্ধিমত্তাকে বৈজ্ঞানিকভাবে সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব হয়নি।

http://www.webschoolbd.com
কিন্তু টিউরিং এর ধারণা ছিল, মানুষের মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে ঠিক কি ঘটছে, তা মানুষ না জানলেও যন্ত্রের মাধ্যমে বুদ্ধিদীপ্ত কাজ করানো সম্ভব।তার এই ধারণার উপর ভিত্তি করেই ১৯৫০ সালের দিকে গড়ে উঠেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।তিনি বুদ্ধিমত্তার সংজ্ঞা নিরূপনের ঝামেলায় না গিয়ে তিনি যন্ত্রের বুদ্ধিমত্তার অস্তিত্ব প্রমাণে সচেষ্ট হয়েছিলেন বিখ্যাত টিউরিং টেস্টের মাধ্যমে।এটি এমন একটি পরীক্ষা যাতে যন্ত্রঘটিত কাজ মানুষকে বিভ্রান্ত করে দেয়, কাজটি যন্ত্র করেছে নাকি মানুষ করেছে? এক্ষেত্রে একজন মানুষকে নিয়োজিত করা হয় কাজটির বিচারক হিসেবে, তাকে বলতে হবে, কাজটি কে করেছে।মানুষের বিবেচনায় যদি মনে হয় কাজটি যন্ত্র দ্বারা সম্পাদিত হয়েছে, তার অর্থ হল, যন্ত্রটির মানুষের অনুরূপ কাজ করার ক্ষমতা নেই, আর যন্ত্রের কাজ যদি মানুষকে এই অনুভূতি দেয়, যে কাজটি মানব দ্বারা সঙ্ঘটিত হলেও হতে পারে, সেক্ষেত্রে যন্ত্রটিকে মানুষের অনুরূপ বুদ্ধিমত্তার অধিকারী হিসেবে বিবেচনা করা যেতে।বর্তমানকালে যারা কম্পিউটার ব্যবহার করেছেন, তাদের মধ্যে অনেকে ELIZA প্রোগ্রামটির সাথে পরিচিত, যাতে কোন প্রশ্ন করলে, প্রোগ্রামটি আমাদের দৈনন্দিন কথোপকথনের মত পালটা প্রশ্ন করে বসে। আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স শব্দটির সম্ভাব্য বাঙ্গলা হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিন্তু তাতে নামকরণটি সার্থক হয় না।কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শব্দটির মানে দাড়ায় “আসল নয় এমন বুদ্ধিমত্তা”।কিন্তু তার চেয়ে বানানো বুদ্ধিমত্তা শব্দটি অনেক বেশী গ্রহনযোগ্য।কিন্তু শব্দটা যতটা মানানসই শুনতে ততটা শ্রুতি মধুর নয়।

অ্যালান ট্যুরিং
ট্যুরিং ছিলেন একজন ইংরেজ গণিতবিদ, যুক্তিবিদ ও ক্রিপ্টোবিশেষজ্ঞ। কম্পিউটার বিজ্ঞানের সবচেয়ে মৌলিক দুটি ধারণার সাথে তার নাম জড়িত: ট্যুরিং টেস্ট এবং ট্যুরিং মেশিন।কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের প্রধান সম্মাননা তার নামে, “ট্যুরিং পুরস্কার” প্রায়ই কম্পিউটার বিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কার নামে পরিচিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, ‘ট্যুরিং গভর্ণমেণ্ট কোড এণ্ড সাইফার স্কুল‌ে’ খণ্ডকালীন চাকরি করতেন, যা ছিল ব্রিটিশ সংকেত উন্মোচনকারী প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে সে ‘হাট-৮’ এর নেতৃত্ব দেন, যেটা জার্মান নৌ-বাহিনীর ধ্বংসের কারণ হয়। উইনস্টোন চার্চিল এর মতে ট্যুরিং একাই জার্মান নাৎসি বাহিনীর বিপক্ষে যুদ্ধ জয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। ট্যুরিং এর ভূমিকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপট পরিবর্তন করে দেয়। অসাধারণ বুদ্ধির অধিকারী ট্যুরিং মাত্র ১৬ বছর বয়সে আলবার্ট আইস্টাইনের কাজের সংস্পর্শে আসেন। ১৯৫২ সালে ট্যুরিং জেলে যান সমকামীতার অভিযোগে। ১৯৫৪ সালে ৪২তম জন্মদিনের ১৬ দিন আগে তিনি সায়ানাইড গ্রহণ করে আত্মহত্যা করেন। ব্রিটিশ রানী ২০১৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যুর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

হার্বার্ট মার্শাল ম্যাকলুহান
(জন্ম: ২১ জুলাই , ১৯১১ - মৃত্যু: ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৮০ ) ইংরেজি সাহিত্যে কানাডীয় অধ্যাপক ও দার্শনিক ছিলেন।পরবর্তীকালে মার্শাল ম্যাকলুহান প্রচারমাধ্যমের দিকে ঝুঁকে পড়েন।প্রচারমাধ্যমের মাধ্যমে সমাজের প্রভাব বিষয়ে তাঁর সম্যক আগ্রহ ছিল।তাঁকে বিশ্বগ্রাম ধারণার জনক বা প্রবর্তক' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।বিজ্ঞাপন ও টেলিভিশন শিল্পে তিনি বেশকিছু বিষয়ে ব্যবহারিক প্রয়োগ নিয়ে কাজ করে গেছেন।'আন্ডারস্ট্যান্ডিং মিডিয়া: দি এক্সটেনশনস অব ম্যান' তাঁর অন্যতম সেরা গ্রন্থ।পরিচিতি প্রচারমাধ্যমকে বার্তাবাহক ও বিশ্বগ্রাম হিসেবে পরিচিত করে জনপ্রিয় হয়েছেন তিনি।
১৯৬০-এর দশকের শেষদিক পর্যন্ত প্রচারমাধ্যম থেকে দূরে থাকলেও ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে এতে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেন।তাঁর মৃত্যু পরবর্তী বছরগুলোয় শিক্ষাঙ্গনে বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।ইন্টারনেট ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর তাঁর কার্যাবলী ও দৃষ্টিভঙ্গী পুণরায় আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।দ্য গুটেনবার্গ গ্যালাক্সি ম্যাকলুহানের "দ্য গুটেনবার্গ গ্যালাক্সি: দ্য মেকিং অব টাইপোগ্রাফিক ম্যান" (১৯৬২) মূলতঃ মুদ্রণের ইতিহাস ও সমাজে এর প্রভাব সম্পর্কিত গ্রন্থ।এ গ্রন্থে ম্যাকলুহান দেখিয়েছেন যে কিভাবে বর্ণলিখন, মুদ্রণ শিল্প ও পরবর্তীতে গণমাধ্যমে চিন্তাধারার প্রতিফলন ঘটে যা পরবর্তীতে সামাজিক সংগঠনে প্রভাব বিস্তার করে।গ্রন্থে তাঁর জীবন দর্শন নিম্নরূপ:- নতুন ইলেকট্রনিক আন্তঃনির্ভরশীলতা পৃথিবীতে বিশ্বগ্রামের প্রতিকৃতি হিসেবে পুণঃপ্রবর্তন করেছে।মনে রাখুন, এটি লিখিত দলিল যা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ধারণার পূর্বে রচিত হয়েছে।p31 অশিক্ষিত সমাজ ব্যবস্থায় কেউ ব্যকরণসিদ্ধ ভুল করতে পারে না। p239 মুদ্রণলিপি নীরবতার ভাষাকে হস্তগত করেছে।p251 আন্ডারস্ট্যান্ডিং মিডিয়া আন্ডারস্ট্যান্ডিং মিডিয়া: দি এক্সটেনশনস অব ম্যান প্রচারমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া বিষয়ক পথিকৃৎ শিক্ষা।এ গ্রন্থে প্রচারমাধ্যমের প্রভাবে তাদের কর্মসূচী গুরুত্বপূর্ণ দিকে ধাবিত হবার কথা তুলে ধরা হয়।কিভাবে বিভিন্ন মাধ্যম সমাজে প্রভাব বিস্তার করে তারই চেষ্টা সম্পর্কে বুঝানো হয়েছে এখানে।ম্যাকলুহানের মতে প্রচারমাধ্যম ভূমিকা রাখছে।এটি শুধুমাত্র তথ্য সরবরাহ করেই ক্ষান্ত হয় না বরং প্রচারমাধ্যম নিজেই অন্যতম চরিত্র।ম্যাকলুহান এ গ্রন্থে লিখেছেন যে, একটি প্রজ্জ্বলিত বাল্ব তার স্বকীয় উজ্জ্বলতার মাধ্যমে পরিবেশ সৃষ্টিতে সক্ষম।গ্রন্থের অন্যতম প্রসিদ্ধ বাক্য হচ্ছে - দ্য মিডিয়াম ইজ দ্য ম্যাসেজ(প্রচারমাধ্যমই বার্তা)এটি একটি ধারণা যা একটি প্রচারমাধ্যম যেমন টেলিভিশন প্রকৃতপক্ষে বিভিন্ন তথ্য প্রদানের মাধ্যম হিসেবে দেখা ও অনুধাবনের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার ঘটায়।দ্য মিডিয়াম ইজ দ্য ম্যাসেজ: অ্যান ইনভেনটরি অব ইফেক্টস (১৯৬৭) গ্রন্থটি ব্যাপকভাবে পাঠক কর্তৃক সমাদৃত হয়।বিশ্বব্যাপী প্রায় এক মিলিয়ন কপি বিক্রয় হয়।

অনলাইন এ ক্লাস করুন একদম ফ্রী. …
প্রতিদিন রাত ৯টা থেকে ১০.৩০টা পর্যন্ত
Skype id - wschoolbd


বি.দ্র.: ওয়েব স্কুল বিডি থেকে বিদেশে পড়াশোনা সংক্রান্ত বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের সাথে যোগাযোগ – 01571769905 (সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত)।


Previous
Next Post »

আপনার কোন কিছু জানার থাকলে কমেন্টস বক্স এ লিখতে পারেন। আমরা যথাযত চেস্টা করব আপনার সঠিক উত্তর দিতে। ভালো লাগলে ধন্যবাদ দিতে ভুলবেন না।
- শুভকামনায় ওয়েব স্কুল বিডি
ConversionConversion EmoticonEmoticon